Discover Tripura Articles

20 Apr 2020

করোনায় কাটছাঁট মাইনে: ৭০% শতাংশ মানে কত?

Manas Biswas

April 17, 2020: ছোটবেলায় মাসে একবার, বাবার সঙ্গে শ্যামবাজারে গিয়ে, করমুক্ত সিনেমা দেখাটা, আমাদের প্রায় অভ্যেস ছিল। সেই অভ্যাসেই দেখেছিলাম, গুপী গাইন বাঘা বাইন, হীরকরাজার দেশে, সবুজ দ্বীপের রাজা-র মতো, বহু করমুক্ত ছবি। এক টাকায় চোখ আর মনভরা আনন্দ। কিন্তু তখন জানতাম না যে, আমাদের দেশে এমন অনেক করমুক্ত জিনিস আছে। যেমন সাংসদদের মাইনে। মাইনে তো আছেই। সেইসঙ্গে একাধিক কমিটিতে থাকলে সেই সব কমিটির মিটিংয়ে হাজিরার জন্য আলাদা ভাতা। ট্রেন ,প্লেন, ভয়, কনভয়, বীমা, চিকিৎসা, অফিস, অ্যাসিস্ট্যান্ট, পেনশন সব আলাদা। সব মিলিয়ে ইনকাম মাসে লক্ষ্যের সামান্য কিছু বেশি। কিন্তু ইনকাম ট্যাক্স নেই। রইল বাকি জনসেবার বাৎসরিক দু'কোটি। তার সেটাও রাজকোষের ট্যাক্সের টাকা। মানে মাছের তেলে মাছ ভেজে, ভোটের প্রচারের জন্য, তেল তুলে রাখার যাবতীয় ব্যবস্থা।

ভেবে দেখুন, আমাকে আপনাকে মাইনে বা ডিএ বাড়ানোর জন্য, দরবারে দরবারে আবেদন-নিবেদন, আন্দোলন, ডেপুটেশন, মিছিল, হরতাল, কর্মবিরতি, বিক্ষোভ মামলা মোকদ্দমা--- কতকিছুই না করতে হয়। কিন্তু ওনাদের এসব ঝুটঝামেলা নেই। নিজেরাই নিজেদের মাইনে বাড়িয়ে নেন। কিন্তু এখন তো মাইনে জাস্টিফাই করার সময়। মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে যে! অতএব নিজেরাই নিজেদের মাইনে 30% কাটছাঁট করেছেন।

কিন্তু কোন মানুষের পাশে? দেশের 37% দারিদ্র্যসীমার নীচে থাকা মানুষের পাশে? পেটের দায়ে অন্য রাজ্যে যাওয়া মানুষের পাশে? ঘিঞ্জি বস্তির একটা ঘরে, গাদাগাদি করে থাকা মানুষের পাশে? 100 দিনের কাজ করতে, অন্য রাজ্যে যাওয়া শ্রমিকের জন্য, হাপিত্যেশ করে দাওয়ায় বসে থাকা, তাঁর পরিবারের পাশে?

এই দাঁড়ানো মানে কী? 100 দিনের মজুরির দু মাসের অগ্রিম টাকা অ্যাকাউন্টে পাঠিয়ে দেওয়া? দাঁড়ানো মানে কি, কোনওভাবে কিছু চাল ডাল আটা সোয়াবিন পৌঁছে দিয়ে, ল্যাঠা চুকিয়ে দেওয়া? ডাল রাঁধতে গেলে তেল দরকার। তেলের জন্য টাকার দরকার। টাকার জন্য কাজের দরকার। কিন্তু করোনার জন্য লকডাউনের জেরে যে, সেই দিন মজুরিও বন্ধ। গোদের ওপর বিষফোঁড়ার মত চেপে বসেছিল, অনিশ্চিত আর অন্ধকার ভবিষ্যতের আশঙ্কা। তাই তো ওঁরা বান্দ্রার রাস্তায় হাজার হাজার পরিযায়ী শ্রমিক নেমে এসেছিলেন। কোনওভাবে যদি নিজের বাড়ির নিরাপদ আশ্রয়ে ফিরে যেতে পারেন! কিন্তু পুলিশের লাঠির ঘায়ে, চটি ফেলে রেখেই, ফের পালাতে হল, সেই অন্ধকার আশ্রয়ে।

শোনা যাচ্ছে, তাঁরা নাকি ভুয়ো খবর পেয়ে স্টেশনে এসেছিলেন। শুনলাম, ভুয়ো খবর প্রচারের অভিযোগে, দুজন সাংবাদিককে, গ্রেপ্তারও করা হয়েছে। কিন্তু এরপরেও কি, অমন নির্বিচারে লাঠি চালানোর বীরত্বকে, যুক্তিগ্রাহ্য করা যায়?

কলকাতার একটি জনপ্রিয় কাগজের সম্পাদকীয়তে পড়লাম, বিভিন্ন রাজ্যে আটকে পড়া, ভিনরাজ্যের শ্রমিকদের সাহায্যের জন্য, কেন্দ্রীয় সরকারের একটি অ্যাপ চালু হয়েছে। সেখানে খবর দিলেই নাকি, এই পরিস্থিতিতে প্রয়োজনীয় সাহায্যগুলো মিলবে। হায় রে ডিজিটাল ইন্ডিয়া! যেখানে খাওয়ার পয়সা নেই, টাকার অভাবে যাঁদের রিচার্জ করারও অবস্থা নেই, তাঁরা করবে হোয়াটসঅ্যাপ?

রাষ্ট্রীয় অর্থনীতির ভিত্তিটাকে, প্রতিনিয়ত মজবুত করে রাখা এই শ্রমিকরা, কখন কতজন কোন রাজ্যে রয়েছেন, কী কাজ করছেন, কত টাকা পাচ্ছেন, সে তথ্য তো রাষ্ট্রের কাছেই থাকার কথা! তার জন্য জনে জনে হোয়াটসঅ্যাপ করতে হবে কেন? ওঁরা সেই রাজ্যের ভোটার নয় বলেই কি এই উদাসীনতা? এ রাজ্যের শাসক দলের সমর্থক না হয়েও, দ্বিধাহীন ভাবে বলতে পারি, বাংলায় কিন্তু এই পরিস্থিতিতে অন্তত, ভিনরাজ্যের শ্রমিকদের, ভোটারের নিরিখে দেখা হচ্ছে না।

মনে হচ্ছে ডিজিটাল ইন্ডিয়ার প্রচারে মজে থাকা সরকারের, অতশত তথ্য রাখার সময় নেই। এমনকী নিজের ঘরের তথ্য রাখারও সম্ভবত আগ্রহ ছিল না। কলকাতার বহুল প্রচলিত খবরের কাগজের সম্পাদকীয়তে পড়লাম, 18 ই মার্চ দিল্লিতে কেন্দ্রীয় শাসকদলের অন্তত কুড়ি জন সদস্য, বৈঠকে বসেছিলেন। কিন্তু ততদিনে তো, করোনা এদেশে প্রায় হইহই করে, হাজির হয়েছে। জনপ্রিয় ওই সম্পাদকীয়তে আরও পড়লাম, মধ্য ভারতের জনৈক সাংসদ, এরপরেই নাকি, নিজেই কোয়ারান্টিনে গিয়েছেন। হলফ করে বলা যায়, সেই কোয়ারেন্টিন, দশ ফুট বাই দশ ফুটের, একচিলতে ঘিঞ্জি জায়গা নয়।

সরকার জানার পরেই অবশ্য, ব্যবস্থা হল। এবং নোটবন্দির মতোই আচমকা, প্রথমে ঘোষিত হল, 14 ঘণ্টার জনতা কারফিউ, এবং তার 48 ঘণ্টার মাথায়, 21 দিনের লকডাউন। আত্মরক্ষার কোন ব্যবস্থা নেওয়ার মতো সুযোগ প্রায় রইল না। হয়তো এই কারণেই, একাধিক রাজ্যের বিরোধী মুখ্যমন্ত্রীরা, এ নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করেছিলেন। কেন কারও সঙ্গে আলোচনা না করেই, এভাবে ঘোষণা হল! দেশের প্রয়োজনে লকডাউন মানতে, কেউ তো আপত্তি করেনি। এখনও তো করছে না!

মাইনের 30% কাটছাঁট করার এই ঘোষণা শুনে, তাই মনে পড়ছে, রবীন্দ্রনাথের 'ঘরে বাইরে' উপন্যাসের সেই সন্দীপের কথা। যে বহুদিন পর আচমকাই নিখিলেশের নিরাপদ আশ্রয়ে এসে পড়ার পর, অস্ত্রহীন অর্ধভুক্ত গোপনে আন্দোলনকারী, তার অনুগামীদের পরামর্শ দেয়, সে যেহেতু বিপ্লবের প্রাণ, অতএব সে সুরক্ষিত থাকলে, তবেই আন্দোলনও সঠিক পথে সুরক্ষিত থাকবে।

ধন্য যুক্তি! এক সাগর থেকে, এক ঘটি জল তুলে নিলে, সাগরের কী যেন হয়?

*** End of Article ***
Advertise with us
discovertripura.com

DiscoverTRIPURA.com


Address

'MANJU ALOY'
Prabhat Chandra Roy Sarani,
Krishnanagar,
Agartala,
Tripura West, PIN-799001

Contacts
Email:
(for web matters)
webupdate.sd@gmail.com
(for official purposes)
discovertripura35@gmail.com
Editor-in-Chief:
Suman Debroy
☎ +91 9862212517
sumanphotoagt@gmail.com
Assistant Editor:
Chandan Ganguli
☎ +91 8794003093
tripuraexpress06@gmail.com